এম কে আনোয়ারের ইন্তেকালঃ ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি’র শোক প্রকাশ

October 25, 2017 2:36 PMViews: 5

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জননেতা এম কে আনোয়ার আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। আমরা ক্যালিফোর্ণিয়া বিএনপি’র পক্ষ থেকে জনাব এমকে আনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ এবং তার বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করছি। মরহুমের পরিবারের সকলের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।১৯৩৩ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার হোমনায় জন্মগ্রহণ করেন এম কে আনোয়ার (মোহাম্মদ খোরশেদ আনোয়ার)। তার পিতা আবেদ আলী ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। এম কে আনোয়ার লেটার মার্কসহ ১৯৪৮ সালে মেট্রিকুলেশন, ১৯৫০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) এবং পরিসংখ্যানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে ১৯৫৬ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিএসপি অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এম কে আনোয়ার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে (১৯৫৬-১৯৯০) ফরিদপুর ও ঢাকার ডেপুটি কমিশনার, জুটমিল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিমানের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন তিনি। এম কে আনোয়ার ১৯৭১ সালে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পেশাগত জীবনে এক সময় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেঘারীর অধীনে চাকরি করেছেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, অর্থসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন শেষে সর্বোচ্চ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে ১৯৯০ সালে অবসর নেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মেধাবী এ আমলা। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম কে আনোয়ার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি দলের মনোনয়ন পান ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে। এরপর কুমিল্লার হোমনা আসন থেকে টানা পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকারে দুইবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ১৯৯৭ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৫৬ সালে মাহমুদা আনোয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যার জনক। তার দুই ছেলে মাহমুদ আনোয়ার কাইজার একজন সফল ব্যবসায়ী, ছোট ছেলে মাসুদ আনোয়ার এমবিএ পাস করে বর্তমানে আমেরিকার একটি মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেট কোম্পানিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। একমাত্র মেয়ে খাদিজা আনোয়ার একজন সাবেক বিসিএস ক্যাডার। এম কে আনোয়ারের শ্বশুর মানিকগঞ্জের আবদুল লতিফ বিশ্বাস রাজনীতিতে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের অনুসারী এবং পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।

ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকারের আমলে কিছুদিন কারাভোগ করেন প্রবীণ এ নেতা। বর্তমান অবৈধ আওয়ামী সরকারের আমলে নাশকতা, সামপ্রদায়িক উস্কানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেশকিছু মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এসব মামলায় তিনি কয়েক দফায় কারাভোগ করেছেন। কারাগারে থাকাকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত কয়েকমাস দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি তিনি। গত সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

Leave a Reply


*