স্বাধীনতার পূর্বেই খান আতার পদস্খলন ঘটেছিল : মজিবুর রহমান খোকা

October 24, 2017 5:20 AMViews: 5

মজিবুর রহমান খোকা : এ কথা আমরা বরাবর জোর গলায় বলে এসেছি যে, ‘স্বাধীনতার পূর্বে খান আতার চারপাশে কিছু মুক্তিপাগল সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ছিল বলেই তিনি কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান আর চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ লিখেছিলেন। যা বাঙালিকে মুগ্ধ করেছিল, অনুপ্রাণিত করেছিল । কিন্তু পঁচিশে মার্চের ভয়াবহতার পর তার সহকর্মী যারা ছিলেন– জহির রায়হান, আলমগীর কবির, আমজাদ হোসেন তারা যখন দেশত্যাগ করে ভারতে গিয়ে পাকবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন, নিপীড়ন-বর্বরতা-নৃশংসতা নিয়ে ছবি বানাচ্ছিলেন তখন তিনি ঢাকায় বহাল তবিয়তে অবস্থান করে পাকিস্তানের গুণকীর্তন গাইছেন । অথচ পাকিস্তান বিরোধী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অপরাধে তারই প্রথম প্রাপ্য ছিল পাকসেনাদের তপ্ত বুলেট। শুধু নামের আগে খান উপাধি ছিল বলে কি তিনি বেঁচে গেছেন ? নিশ্চয় নয় । তিনি পাকিস্তানের আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন বলেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন । এখানেই তার পদস্খলন হয়েছে I ইতিহাস প্রমাণ করে, এ সব ব্যাপারে একবার যার স্খলন হয়, সে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয় ।

সে সময় অনেকে বিভিন্ন কারণে দেশত্যাগ করতে পাননি কিন্তু তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আলতাফ মাহমুদ স্মরণার্হ। খান আতা যুদ্ধ চলাকালে কি মুক্তিযোদ্ধাদের এমন কোনো সহযোগিতা করেছিলেন ? না, করেননি । বরং দেশ স্বাধীনের পর ‘আবার তোরা মানুষ হ’র মতো ছবি বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্র সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন I তখন থেকে মানুষের মনে মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা জন্মায় I অথচ আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সকল অস্ত্র সময়মতো জমা দিয়ে স্ব স্ব কাজে ফিরে গিয়েছিলাম । খান আতা পঁচাত্তর পরবর্তী ভূমিকা কি ছিল তাও আমাদের সবার জানা । আশা করি, কেউ কখনো নষ্ট মানুষদের পক্ষ নিবেন না ।

মজিবুর রহমান খোকা, বিদ্যা প্রকাশ, লস এঞ্জেলেস

Leave a Reply


*