নিউ ইয়ার ও খৃষ্টবর্ষবরণ উৎসব কবে থেকে আসলো

December 30, 2016 6:39 PMViews: 21

 

তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইর্য়কঃ

আগে চাঁদ দেখে বছর গণনা করা হতো। তাই উৎসব শুরু হতো চাঁদ দেখে। আমরা যেমন এখন ঈদের চাঁদ দেখি, ওরাও কিন্তু তখন সেভাবেই বর্ষবরণের চাঁদ দেখত। তারপর যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত, শুরু হতো তাদের বর্ষবরণ উৎসব, চলত টানা ১১ দিন। এই ১১ দিনের অবস্য আলাদা আলাদা তাৎপর্যও ছিল।

২০১৬ সাল শেষ হয়েই গেল, এসে গেল ২০১৭ঠিক যেই মুহূর্তটাতে ২০১৬ সাল শেষ হয়ে ২০১৭সাল শুরু হবে, তখন কি মজাটাই না হবে! সবাই একসঙ্গে হয়ে আনন্দ করবে, আতশবাজি ফোটানো হবে আর একজন আরেকজনকে বলবে, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। আপনিও নিশ্চয়ই সে সময় কি করবেন ঠিক করে রেখেছেন? এই যে নিউ ইয়ারে সবাইকে উইশ করবেন, এই নিউ ইয়ার পালন কবে থেকে শুরু হয়েছে, জানেন কিযে সব উৎসব পৃথিবীব্যাপী পালিত হয়, তাদের মধ্যে সবচে পুরোনো উতসব হলো বর্ষবরণ। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার আবার ৪টা আলাদা ভাগ আছে, সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনিয় সভ্যতা, আসিরিয় সভ্যতা ও ক্যালডিয় সভ্যতা। এদের মধ্যে প্রথম বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনিয় সভ্যতায়। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো বর্ষবরণ। তবে সেটা কিন্তু এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতোনা। তখন নিউ ইয়ার পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনেবসন্তকালে প্রকৃতির নতুন করে জেগে ওঠাকেই তারা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল।

অবশ্য তারা তখন চাঁদ দেখে বছর গণনা করতো। তাই উতসব শুরু হতো চাঁদ দেখে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠতো, শুরু হতো তাদের বর্ষবরণ উৎসব, চলতো টানা ১১ দিন। এই ১১ দিনের আলাদা আলাদা তাৎপর্যও ছিলো। ব্যাবিলনিয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করতো রোমানরা। ওরা আবার এক কাঠি উপরেই ছিলো। তারা তৈরি করে ফেলেছিলো ক্যালেন্ডার। সে ক্যালেন্ডারও রোমানরা চাঁদ দেখেই বানিয়েছিল। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওদের নববর্ষ ছিলো ১ মার্চ। তবে প্রথম দিকে ওদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টা, ছিল না জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারী।পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারীকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন। রোমান সাম্রাজ্যে এই ক্যালেন্ডার নিয়ে বেশ ঝামেলা হয়েছিলো। তাই সে সময় কবে থেকে নতুন বছর শুরু হবে, সেটা ঠিকই করা যাচ্ছিলো না। একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিন নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালিত হতো। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাত খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিলো বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা ঠিকভাবে মানাই হচ্ছিলো না।

পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর সমস্যা ছিল আরো, রোমানদে   ক্যালেন্ডারতারিখও ছিলো না। চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা দিয়ে ওরা মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করতো। চাঁদ ওঠার সময়কে বল হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। পরে সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি ক্যালেন্ডস, ইডেস, নুনেসের ঝামেলা শেষ করে বসিয়ে দেন তারিখ। ফলে বছরে মোট ৩৫৫ দিন হয়। ভাবছেন, আর ১০ দিন তাহলে গেলো কোথায়? আসলে তারা তো তখন চাঁদকে দিয়ে বছরের হিসেব করতো। আর আমরা এখন বছরের যে হিসাব করি, সেটা তো সূর্য দিয়ে হিসাব। চাঁদের হিসাব করায় তাদের বছরে ১০ দিন কম থেকে গিয়েছিল। জানেন নিশ্চয়ই, চাঁদের হিসাবে প্রতি মাসে দিন হয় সাড়ে ২৯ টি। এজন্যই আরবি হিজরি সালের মাসগুলো ২৯ কিংবা ৩০ দিনে হয়। ঐভাবে বছর হিসাবের ফলে চাষিরা পড়লো সমস্যায়। এই সমস্যার সমাধান করলেন হোঞ্চাস হেডাস নামের এক রোমান। তিনি ফেব্রুয়ারির পরে আরেকটা অতিরিক্ত মাসই ঢুকিয়ে দিলেন। তখন সিজার দেখলেন, অবস্থা তো বড়ো বেগতিক। পরে অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেখলেন, এতো ঝামেলা পাকানোর তো কিছু নেই, চাঁদের হিসাব না করে, সূর্য দিয়ে হিসাব করলেই তো ঝামেলা চুকে যায়। ব্যস, সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো। বছর হয়ে গেলো ৩৬৫ দিনের। তবে অনেকে বলে তিনি সূর্য দেখে প্রথমে ৩৬৫ দিনের নয়, ৪৪৫ দিনের ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলেন! ক্যালেন্ডারে ঢোকান, তিনি ঠিক করে দেন, জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ। কিন্তু সে কথাও মানা হলো না।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, রোমান সাম্রাজ্যে এই ক্যালেন্ডার নিয়ে কতো রাজ্যের ঝামেলা হয়েছিলো। আর তাই সে সময় কবে যে নতুন বছর শুরু হবে, সেটা ঠিকই করা যাচ্ছিলো না। একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিন নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালিত হতো। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিলো বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা ঠিকভাবে মানাই হচ্ছিলো না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে ঢোকান, তিনি ঠিক করে দেন, জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ। কিন্তু সে কথাও মানা হলো না। রোমানরা সেই আগের মতো মার্চের ১ তারিখেই বর্ষবরণ উৎসব করতে লাগলো। পরে জুলিয়াস সিজার যখন ৩৬৫ দিনে বছরের ঘোষণা দেন, তখন আবার বলে দেন, মার্চে নয়, বছর শুরু হবে জানুয়ারির ১ তারিখে। উৎসবও সেইদিনই হবে। এইবার কাজ হলো। বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এলো জানুয়ারিতে। সেই যে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার শুরু করে গেছেন, আমরা এখনো সেইদিনেই বর্ষবরণ উৎসব করছি!

আসলে কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। যদিও আমরা জানুয়ারির ১ তারিখেই উৎসব করছি, দিনটা কিন্তু এক নয়। সিজারের ক্যালেন্ডারেও সমস্যা ছিলো। সেই সমস্যা দূর করেন একজন ডাক্তার। নাম তার অ্যালোসিয়াস লিলিয়াস। কিন্তু ইতিহাসে তার নাম সেভাবে কেউ জানে না। কারণ, ক্যালেন্ডারটির কথা সবাইকে জানান একজন পোপ। সবাই তাকেই চেনে। তিনি পোপ ত্রয়োদশ (১৩তম) গ্রেগরি।

পোপ গ্রেগরির নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আমরা এটিই ব্যবহার করি। এই ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয় মাত্র ৪০০ বছর আগে, ১৫৮২ সালে। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখেই নববর্ষ হিসেবে পালন করতে শুরু করে দিলো। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লো ১ জানুয়ারির বর্ষবরণ উৎসব। আর এখন তো পুরো পৃথিবী জুড়েই সবাই নিজস্ব বর্ষবরণের পাশাপাশি পালন করে ইংরেজি নববর্ষ। আমরাও পহেলা বৈশাখের পাশাপাশি প্রতিবছরই ১ জানুয়ারিতেও বর্ষবরণ করি। এদিনও আমরা সারারাত আনন্দ করি, ইউরোপ আমেরিকায় ১ জানুয়ারি সবাই ছুটি কাটায়।

এখন তো জেনে গেলেন, কিভাবে নিউ ইয়ারের প্রচলন হয়েছে। এইবার ঠিক করেন, সেই আদ্যিকাল থেকে পালিত হয়ে আসা উৎসবে আপনি কি করবেন? নাচবে, গাইবে, নাকি অন্য কিছু? তবে সবচেয়ে মজা হবে কি করলে জানেন? যদি বছরের প্রথম সময়টুকুতে আপনার আব্বু আম্মুর সঙ্গে থাকতে পারেন। আব্বু আম্মুর সঙ্গে থাকতে পারার চেয়ে আনন্দের আর কি আছে বলেনবর্তমান সময়ে বিশ্বের প্রধান শহর গুলিতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয় আলোয়, আতসবাজিতে সেজে হয়ে ওঠে বিশ্বের রাজধানীতে। আলোকমালায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে।

 

Leave a Reply


*