মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় সম্মান দাবি

August 9, 2015 9:03 AMViews: 136

বস্টন: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে রসদ সংগ্রহে বস্টনে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের অবিস্মরণীয় ভ’মিকার সম্মাননা প্রদানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো হলো ৮ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় বস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স সেন্টারে ‘প্রবাসী বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ এবং ড. মাহবুবুল আলম’ বইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠানে। বইটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধে বস্টন প্রবাসীদের ভ’মিকা।’একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসে থেকে নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে সহযোগীতা ও অংশগ্রহণের দালিলিক প্রমাণ ও তথ্য সমৃদ্ধ এই বইয়ের আলোচনা সভাটি সে সময় বস্টন তথা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী এবং মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এনআরবি নিউজ

08092015_09_BOSTON_SEMINAR

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত ডঃ এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রধান আলোচক ছিলেন বইয়ের সম্পাদক এবং ডঃ মাহবুবুল আলমের স্ত্রী সালমা আলম।
পদার্থবিজ্ঞানী মাহবুবুল আলম প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘মাহবুবুল আলম তাঁর মানবিক গুণাবলির কারণে বস্টনে প্রবাসী বাঙালিদের প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর উদারতা ও মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিল দেশপ্রেম। দেশের প্রতি এই যে মায়া সেখানে ছিল না সামান্যতম খাঁদ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নানাভাবে কাজ শুরু করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সহায়তা করেন। একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে মাহবুবুল আলম বস্টনে সভা-সমিতির আয়োজন করেন, বিভিন্ন উপায়ে অর্থ ও সমরাস্ত্র সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রেরণ করেন। বস্টনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার করতেও তার অফুরন্ত প্রয়াস ছিল।’

রাষ্ট্রদূত মোমেন উল্লেখ করেন, ‘এছাড়াও তদানিন্তন মার্কিন সিনেটর এডোয়ার্ড কেনেডিসহ নির্বাচিত জনপ্রতিধিদের সাথে যোগাযোগ, গণমাধ্যমের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরা, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং মুক্তিবাহিনীর জন্য কমিউনিকেশন সামগ্রী প্রেরণেও তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন।’ রাষ্ট্রদূত মোমেন এ সময় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশীদেরকে সরকার সম্মাননা দিচ্ছে। প্রবাসী বাঙালিদের সম্মাননা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই কৃপণতা করবেন না। কারণ, তিনি আন্তরিকতার সাথেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে কাজ করছেন। একইসাথে, বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, সে অপবাদ ঘুচে ফেলার জন্যেই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার অব্যাহত রয়েছে।’ রাষ্ট্রদূত মোমেন উল্লেখ করেন, ‘ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস চালাচ্ছে, মুক্তমনার মানুষদের যারা হত্যা করছে, তারাও রেহাই পাবে না। বিচারের কাঠগড়ায় তাদেরকে দাঁড় করাতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

অপর বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বাঙ্গালীদের প্রথম সংগঠন ‘বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠায় ড. মাহবুবুল আলম ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ এবং তিনি ছিলেন সংগঠনটির প্রথম নির্বাচিত সভাপতি।’ সভায় মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালির অবদানের স্বীকৃতি প্রদান ছাড়াও মৌলবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গঠনে সরকারকে আরো কঠোর হবার আহবান জানানো হয় এবং ব্লগার নিলয় হত্যার তীব্র নিন্দা ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. কাজী আজিজুল হক, ড. মুনিরুল ইসলাম, ড. রেজাউর রহমান, ড. বামন দাশ বসু, ড. মনজুর আহমেদ, কম্যুনিটি লিডার ইকবাল ইউসুফ, আবু কামাল আজাদ, নাহিদ সিতারা, দুলাল তালুকদার, আবদুল সিনহা সান্টু, মুনীর সাজি, শাপুর আলম, আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ জানে আলম, রোকেয়া মাহমুদ প্রমুখ।

Leave a Reply


*