৪ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন : বর্ণবাদী ক্লেদ বাড়ার আশংকা , ইমিগ্রেশনে প্রভাব পড়বে : ১৯০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

November 1, 2014 8:12 PMViews: 51

নিউইয়র্ক : আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার। ইতিমধ্যেই প্রচার-প্রচারণায়, বাক-বিতর্কে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আমেরিকা জুড়ে। মধ্যবর্তী নির্বাচন মানেই প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা নিয়ে রেফারেন্ডাম। আমেরিকার ইতিহাসে ৩৮টি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৩৫টিতেই প্রেসিডেন্টের দলের হারার রেকর্ড। এবারের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ-উত্তেজনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্টেটে সিনেটর গভর্নরদের বাকযুদ্ধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রূপ নিচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে তা উঠে আসছে। গত মাসেও হারপার ম্যাগাজিনের জরিপে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলা হয়, ওয়াশিংটন জ্বলছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষকরা যে মতামত ব্যক্ত করেছেন তাতে প্রেসিডেন্টের দলের পরাজয় এবারও প্রায় নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের পুরো ৪৩৫ আসনে, সিনেটের ৩৫ আসনে ও গভর্নরের জন্য ৩৬টি স্টেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ইতিমধ্যেই ১৯০ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ সব আসনের মধ্যে যেখানে ডেমক্র্যাটদের দখলে এবং যে সব আসন রিপাবলিকানদের দখলে এবং নিশ্চিত জয় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২০১০ সালে হাউজ তার হাতছাড়া হয়। যদিও সিনেটে মেজরিটি ডেমক্রেটদের হাতে থেকে যায়। এবার আশঙ্কা করা হচ্ছে সিনেট ডেমক্রেটদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। আলাস্কা, আরকানসাস, কলরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মন্টানা, সাউথ ডেকোটা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বর্তমান ডেমক্রেট সিনেটরদের জায়গায় রিপাবলিকানরা দখলে নেবার সম্ভাবনা প্রচুর। এরমধ্যে আলাস্কা, কলরাডে, আইওয়াতে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকানরা খুব কম মার্জিনে এগিয়ে আছে। অন্যান্য স্থানে তাদের অবস্থান ক্রমাগত দৃঢ় হচ্ছে। বর্তমান সিনেটে ডেমোক্রেটরা ৫৩টি আসন দখল করে আছে। রিপাবলিকানদের হয়েছে ৪৫, আর স্বতন্ত্র ২।

01112014_09_US_ELECTION

এদিকে জর্জিয়া ও কানসাসে দুটি আসন রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হবে বলে ধারণা। যে সব স্টেটে ডেমক্রেটরা আসন হারাবে বলে প্রজেকশন করা হচ্ছে, সেখানে যদি রিপাবলিকানরা অন্তত ৬টা আসন দখল করতে পারে তাহলে সিনেট রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হবে। সিনেট মেজরিটি নেতা হবে ম্যাককননেল। জন রীড হবেন প্রধান বিরোধী নেতা। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে তারপরও জন রীডের উপর নির্ভর করতে হবে। সমান সংখ্যক আসন পেলে সিনেট অবশ্য ডেমক্রেটদের হাতে থাকবে। কারণ তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হবে সিনেটের প্রেসিডেন্ট এবং তিনি কাস্টিং ভোট দিতে পারবেন। সিনেটে এবারে ডেমক্রেটদের ২১ আসনে এবং রিপাবলিকানদের ১৫ আসনে নির্বাচন হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে রিপাবলিকানরা অন্তত ৫১ আসন পাবেন আর ডেমক্রেটরা পাবেন ৪৬। অপর তিন আসন থাকবে স্বতন্ত্র সদস্যের হাতে। এখন স্বতন্ত্রের হাতে আছে ২ আসন। আবার ধারণা করা হচ্ছে, টেকনিক্যালি ডেমোক্রেটরা যদি ৪৭ আসনও পায় তাহলে স্বতন্ত্র তিনজনের সমর্থন নিয়ে তারা সিনেটে মেজরিটি ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে। বর্তমানে ৫০ গভর্নরের মধ্যে ২৯ রিপাবলিকান ও ২১ ডেমোক্রেট। আর নির্বাচন হচ্ছে এ বছর ৩৬টি স্টেটে। তারমধ্যে ২১টি স্টেটে রিপাবলিকান ও ১৫টি স্টেটে ডেমক্রেট। ৫ জন রিপাবলিকান ও ৬ জন ডেমক্রেট পুনঃনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবকিছু মিলিয়ে এবার সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে উত্তেজনাকর। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণ মানুষের তেমন কোনো দৃষ্টি আকর্ষণ না করলেও এরপর তা বিভিন্ন কারণে আলোচিত। সবকিছুর পরও পলিটিক্যাল ম্যাগাজিনের এক রিপোর্টে বলা হয়, ১০টি স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তুমুল। তবে মোট ১৩টি সিনেট আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী টেরিলিন লেন্ডের প্রচারণা তেমন নেই। ন্যাশনাল রিপাবলিকান সেখানে কোনো প্রচারণা করছে না। কারণ ডেমক্রেট প্রার্থী গ্যারি পিটারস এর সেখানে নির্বাচিত হওয়া অনেকটা নিশ্চিত। কেন্টাকীতে ম্যাককনেল জনপ্রিয় হলেও আলীসন লান্ডারগ্যাট গ্রাইমস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলাফল কি দাঁড়াবে তা বোঝা মুস্কিল। এইখানে নির্বাচনে রিপাবলিকান হেরে খাবার সম্ভাবনা। নিউহ্যাম্পশায়ার ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। ম্যাসসুটেস এর প্রাক্তন সিনেটর স্কট ব্রাউন রিপাবলিকান প্রার্থী সেখানে। তবে ডেমক্রেট সিনেটর জন শাটন এগিয়ে আছে। ধীরে ধীরে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ডেমক্রেটদের জন্য নার্ভাসনেসের বিষয় হয়ে পড়ছে। নর্থ ক্যারোলিনার সিনেটর ক্যা হাগান পরিবেশবাদীদের কাছ থেকে আশা পেয়েছেন।

জর্জিয়ার রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর কিন্তু সেখানে ডেমক্রেট মিল নুন এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান ডেভিড পারডু তার আউট সোর্সিং সমস্যার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে আছেন। সেখানে খুব কম মার্জিন হলে জানুয়ারির ৬ তারিখ রান অফ নির্বাচন হতে পারে। তবে রান অফে কোন সময় ডেমক্রেটরা ভালো করে না। তারপরও মিশেল স্ট্রেট ফাইটে জিততে পারে। আইওয়াতে ডেমক্রেট আসনে রিপাবলিকান স্টেট সিনেটর জনি আর্নেস্ট বেশ জনপ্রিয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিনিধি ব্রুস ব্রানি। কানসাস রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত উভয়পক্ষ গুনছে এই আসনের জয়। এখানে রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট রাইটস ও স্বতন্ত্র গ্রেগরী অরসসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কলারাডোতে বর্তমান ডেমক্রেট সিনেটর। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী করি গাউনার ডেমক্রেট মার্ক উডল এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, তবে রিপাবলিকান এগিয়ে। আলাস্কাতে ডেমক্রেট আসনে, রিপাবলিকান ডান সুল্লিবান ডেমক্রেট সিনেটর মার্ক বেগিম এর উপর লিড করছে। লুজিয়ানা ডেমক্রেট আসনে ডেমক্রেটরা হার্ডলাইন ফেস করছে। তবে সেখানে রান অফ নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি। ডেমক্রেট প্রার্থীকে আগামী ৬ ডিসেম্বরের রান অফে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতে পারে। আরকানসাসে ডেমক্রেট আসন। সেখানে ডেমক্রেট সিনেটর মার্ক প্রয়ারসের দিন যেন ক্রমাগত ঘনিয়ে আসছে। রিপাবলিকান টম কটন সেখানে প্রতিদিন তার জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছেন। সাউথ ডেকোটায় ডেমক্রেট আসনে, রিপাবলিকান মাইক রাউন্ডস ফেবারিট ছিলেন। তবে তিনি স্বতন্ত্র সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর ল্যারি প্রেসলার ও ডেমক্রেট রিফ উইল্যান্ডের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ডেমক্রেট নিয়ন্ত্রিত। ন্যাশনাল জার্নাল এর মতে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান শেলী সুর ক্যাপিটো সবচেয়ে ভালো ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। সেখানে ডেমক্রেট প্রার্থী স্টেটের সেক্রেটারি নাটালী টেন আন্ট সুবিধা করতে পারবেন না। মন্টানার ডেমক্রেট আসনে ডেমক্রেট সিনেটর ইলেন্ট স্টিন চেইলস পুনঃনির্বাচন করছেন না। সেখানে রিপাবলিকান আমান্দা কুর্টিস এই আসন দখল করে নেবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত। নিউইয়র্ক টাইমস গত ২৫ অক্টোবর শনিবার নির্বাচন নিয়ে লিখেছেন, রাজনৈতিক দিক থেকে এই নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন। ডেমক্রেটরা সিনেটে সংখ্যাধিক্য হারাবেন। কিন্তু তারা সকল প্রকার দোষ দিবেন এ পরাজয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামাকে। হোয়াইট হাউজ যেন সবকিছু নষ্ট করেছে। তার কারণ রিপাবলিকানরা সব দোষ দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে। অনেক আশাবাদী ডেমক্রেটরাও বলছেন, ৫০-৫০ এর বেশি আসার সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউজের বিরুদ্ধে তথা ওবামার বিরুদ্ধে এখন অনেক কর্মকর্তা, কৌশলী এবং ডোনাররা প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখর।

তারা বলছেন, তার ক্ষীণ জনপ্রিয়তা ও তার থেকে দূরে থাকার জন্য কতিপয় প্রার্থীর প্রয়াস তার কোনো কোনো উক্তির কারণে নস্যাৎ হয়েছে। আরকানসাসের গভর্নর মাইক বিব বলেন, এটা কোনো গোটা দেশের পরিবেশ নয়। হোয়াইট হাউজ এর অব্যবস্থাপনার ফসল এটা। কিন্তু ওবামার পক্ষের লোকজন বলছেন ভিন্ন। তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট তরুণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার হার বাড়াতে পারতো। প্রেসিডেন্টের অভ্যন্তরীণ লোকজন বলেন, যদি এবার ডেমক্র্যাটরা জিতে তাহলে তা হবে ওবামার যোগাড় করা অর্থের কারণে। এবং কলরাডো, আইওয়া ও ক্যারোলিনায় সংগঠন গড়ে তোলা এবং ব্যয় করা অর্থের কারণে। ওবামার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডেডিভ আলেকজান্ডারও বলেছেন, যদিও তাকে কোন কোন পরাজয়ের জন্য দোষারোপ করা হবে, তারপরও বলা যায়, তার সৃষ্টি করা ‘গেট আউট দ্যা ভোট এপারেটাস’ এর কারণে অনেক আসন রক্ষা পাবে। দলের মধ্যে এই ভাগাভাগি ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। সিনেট লিডার হ্যারী রিড বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাদের বৈষম্য রয়েছে। অন্যদিকে যারা তার প্রতি বিষয়টা দেখিয়েছেন ভোটের জন্য, তাদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা তার বিরোধিতা করছেন, তারা সকলে তার সাথে ভোট দিয়েছেন। ডেমক্রেটিক কুশলী পল বেগেলা বলেন, শব্দ সম্পর্কে সচেতন প্রেসিডেন্ট কীভাবে একথা বলেন। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের মতে প্রেসিডেন্ট ওবামা সিনেট নির্বাচনের পর লেম ডাক হয়ে যাবে। ওহাইও’র ডেমক্রেট সিনেটর শেরড ব্রাউন বলেন, সবাই উদ্বিগ্ন, ভোটাররা প্রেসিডেন্টের প্রতি অসন্তুষ্ট। কিন্তু তারা রিপাবলিকানদের প্রতি আরও বেশি বিরক্ত। বর্তমান নির্বাচন যেন পরিচালিত হচ্ছে ওবামা যে খারাপ করেছে তা প্রমাণ করতে। একথা এখনই বলা যায় সিনেট ডেমক্রেটদের হাতছাড়া হলে ওবামার প্রতি তীরের তীব্রতা অনেক বাড়বে। আলাস্কার সিনেটর মার্ক যোগল প্রচারণা চালাচ্ছে, আমি ওবামা প্রশাসনকে এক হাত দেখে নেব।’

পশ্চিম ভার্জিনিয়ার এক প্রচারক বলেছেন, নাতালি টেনআনট প্রেসিডেন্টের অধিকাংশ নীতি সমর্থন করেন না। জর্জিয়ার মিশেল নুন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে ভোট দিয়েছেন একথাও বলতে চান না। আগামী সরকার কেমন যাবে? এ প্রশ্নের এক উত্তর, তেমন ভালো যাবে না। আগামী দু’বছর তেমন সুখের হবে না। কেন্টাকীর মিটস ম্যাককনালম সিনেট মেজরিট লীডার হবেন। তিনি পলিটিকো ম্যাগাজিনে বলেছেন, আমরা স্পেন্ডিং বিল পাস করবো, আর তারা দেখবে আমলার উপর অনেক প্রতিবন্ধকতা। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি। তার অনেক কিছু তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু তা করা হবে। তিনি বলেন, সিনেট ও হাউজে তারা বাজেট করবো। তার অর্থ কি? তার অর্থ হচ্ছে আমরা স্পেন্ডিং বিল পানস করবে। তারপর বিলে রাইডার দিয়ে আমরা আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করবো। এটা-সেটা করতে অর্থ ব্যয় করা হবে না। আমরা ফিন্যান্সিসিয়াল সার্ভিস, এনভারয়নমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সি নিয়ে তাদের সাথে দরবার করবো। কিন্তু ম্যাককনেল যা বলছেন তা বিচার করলে তার কথার সত্যতা দেখা যায় না। কারণ রিপাবলিকানরা সিনেট জিতে গেলে তারা যা ইচ্ছে তা করতে পারবে না। ডেমক্রেটরা আপার চেম্বারে বিলের জন্য ফিলিবাস্টার করতে পারবে। (৬০ সদস্যের সমর্থন নেই) কারণ রিপাবলিকানরা ৬০টার কম আসনই পাবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রেসিডেন্ট ওবামা ভেটো প্রয়োগ করতে পারবেন। কারণ যে কোন বিলে তিনিই সই করবেন। ইতিপূর্বেও প্রেসিডেন্ট বসন্তকালীন সময়ে আরও একবার ভেটো দিয়েছিলেন। ডেমোক্রেটরা রিপাবলিকানদের যে কোনো বিলের বিরোধিতা করতে পারেন। আবার তারা নিজেদের কোনো বিল পাস করতে চাইলে তাদেরকে আপস রফা করতে হবে। যে সব বিষয়ে ডেমক্রেট ও রিপাবলিকানরা একসাথে কাজ করতে পারেন, এরমধ্যে আছে, ট্রেড প্রমোশন কর্তৃত্ব। তাতে করে বর্তমান দরকষাকষির আওতায় আছে এমন দুটি বড় অ্যাক্ট পাস করতে পারে। তারমধ্যে কি স্টোন হিসেবে এক্স এন অয়েল পাইপলাইন অন্যতম। করপোরেট ট্যাক্স রিফর্ম যদিও পাস করা কঠিন, তারপরও তা পাস করা যায়। তারপর আছে ইমিগ্রেশন রিফর্ম। রিপাবলিকানরা কাটছাট করা এক ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাস করতে পারে। সেখানে থাকতে পারে দক্ষ ইমিগ্র্যান্টদের জন্য অধিকহারে ভিসা। এবং বর্ডার সিকিউরিটি বৃদ্ধি। কিন্তু তারা প্রধান সমস্যা সংকুল বিষয় যেমন ১২ মিলিয়ন অবৈধ যা কাগজপত্রবিহীন যারা রয়েছেন তাদের জন্য কী করবেন? কিন্তু তারা এক্ষেত্রে তেমন বাধাও দিতে পারবে না। তারা দেখবে বাধা দেয়া কিংবা ফিলিবাস্টার করা কঠিন হবে।

এরপর নির্বাচনে ডেমক্রেটরা হেরে গেলে প্রেসিডেন্ট ইমিগ্রেশন সংস্কারে আর কোনো নির্বাহী আদেশ জারি করবেন কিনা তা পরে অনুসন্ধান করার বিষয় হয়ে পড়বে। অন্যান্য অনেক প্রধান বিষয়ের মধ্যে রিপাবলিকানদের জন্য রয়েছে ডেমক্রেটরা ২০ সপ্তাহের জন্য গর্ভপাত বন্ধ করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে। কনজুমার ফিন্যান্সিয়াল প্রটেকশন বুরো ভেঙে দেয়ার ব্যাপারে রিপাবলিকান প্রস্তাব এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সি বন্ধ করে দেয়া, এফরডেবল কেয়ার আইন বাতিল, মেডিকেইড গ্রান্ট বন্ধ করা, ফুড স্ট্যাম্প আরো কমানো, ছাত্র ছাত্রীর জন্য পেল গ্র্যান্ট কমিয়ে দেয়া, আরও অনেক বিষয়। এসব প্রধান বিষয়ে রিপাবলিকানদের পক্ষে বিল পাস করতে চাইলে এখন বর্তমান সিনেট মেজরিটি নেতা হেরী রিড তার অনুসারী ডেমক্রেটরা ফিলিবাস্টারের আশ্রয় নেবে। কিন্তু তারপরও রিপাবলিকানরা অনেক বিষয় ফিলিবাস্টার এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেস্কে পাঠাতে পারেন। আর সে প্রসেস হচ্ছে ফিলিবাস্টার এড়িয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’ এর প্রসেস। প্রেসিডেন্ট ওবামা রিপাবলিকানদের দেয়া বাজেট অনুমোদন করবে, না তার ভেটো পাওয়ার ব্যবহার করবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে থাকবে। রিপাবলিকান প্রস্তাব তিনি হেইট করেন। আর একারণে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হতে পারে। আর তাতে আরেক দফা ঋণ সিলিং সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তখন প্রশ্ন আসবে রিপাবলিকানরা কতটুকু পুশ করবে আর হোয়াইট হাউজ কতটুকু সহ্য করবে? তারা কি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাঙ্ক জ্যাম করে ফেলবে? তারা কি এফোর্ডেবল কেয়ার এক্ট এবং বর্ধিত ব্যয় অনুমোদন করবে যাতে তার বাস্তবায়নে সরকারি হাত থাকে? ডেমক্রেটরা কি বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা কমানোর জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি কমাবে? হোয়াইট হাউজ কি পল রায়ানের মেডিকেইড বিল কমানোর বাজেটে অনুমোদন দেবে? রিপাবলিকানরা কি সরকারি তৎপরতা বন্ধ রাখতে একের পর এক প্রস্তাব পাস করে চলবে? আর তা করে তারা আলোচনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে? অথবা তারা কি এমন ব্যবস্থা করবে যাতে ভোটাররা হোয়াইট হাউজকে এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে? অনেকের ধারণা আগামী দু’বছর অনেকটা অতীতের দু’বছরের মতো হবে। খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। ঘষামাজা চলতে থাকবে। অথবা বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো সময় সরকারি কর্ম বন্ধ হবে অথবা ঋণ সিলিংও চালু রাখা হবে। এবং রিপাবলিকানরা খুব বেশি একটা রাজি হবে না। কেন্দ্রের বৃত্ত থাকবে অনতিক্রান্ত, ঘুর্ণিঝড়ের চোখের স্থান পরিবর্তন হবে তবে ঝড় বইতে থাকবে। সাম্প্রতিক হারপার ম্যাগাজিনের মন্তব্য অতি গণতান্ত্রিক বলে খ্যাত হারপার ম্যাগাজিনে আমেরিকার গণতন্ত্রের খোল নলচে নিয়ে আলোচনা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে তাদের এক সংখ্যায় লেখা হয়েছে, ওয়াশিংটন জ্বলছে।

এক কাহিনী সাজানো হয়েছে বলা হয়েছে, জাতির রাজধানীতে ২০০ বছর ধরে চলছে বর্ণবাদী দুঃখ কষ্ট। লিখেছেন আন্ডু ককবার্ন। তিনি তার আর্টিকেলে দেখিয়েছেন গত দু’শ বছরের বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্ষমতাসীন শক্তির হাতে কালো মানুষেরা কখনো সত্যিকার অর্থে তাদের অগ্রগতি রচনা করতে পারেনি। যখন যে আইন কালো মানুষদের কল্যাণে করেছে বলে ধারণা করা হয়েছে তা আসলে কালো মানুষদের শেকলে আবদ্ধ করেছে। আজও তার রেশ চলছে। বর্ণবাদী দুঃখ কষ্ট কালো মানুষদের জীবনাচরণকে প্রচন্ডভাবে আন্দোলিত করেছে। আর এই কারণে কালো কমিউনিটি আজও ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার কার্যকলাপ তার থেকে খুব বেশি একটা ভিন্ন ধারা রচনা করতে পারেনি। প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র নীতি যেমন, পাকিস্তানের বা আফগানিস্তানের তালেবান সমস্যা, আইএস সমস্যা বা ইসলামী স্টেট সমস্যায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা, বেনগাজী সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান নীতি, আমেরিকার বাণিজ্য সাফল্য ইত্যাদি আগামী নির্বাচনে মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে এই মাপকাঠিতে সর্ববিষয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামাকে দোষারোপ করা অনেকটা স্ববিরোধিতা। আসন্ন নির্বাচন আমেরিকার জাতীয় সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো চমক সৃষ্টি করতে না পারলেও তা ওয়াশিংটনের রাজনীতিকে শত্রু মিত্র নির্ধারণে অনেকটা যুতসই করে তুলবে। পরিবর্তন হলেও কৌশলের হাতবদল ছাড়া অগ্রগতি হবে না।

Leave a Reply


*