‘মা দুর্গা নয়, প্লিজ কল মি ডুগ’

September 29, 2014 2:28 PMViews: 397

মৌসুমী মানি বিশ্বাস : উইকএন্ড, শনিবার, কাজকর্ম কম। সকালে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে মা দুর্গা আরাম করে সোফাতে বসলেন। রোজই একটু ফেসবুক না খুললে মনে শান্তি হয় না। কী জানি! ব্রহ্মা-বিষ্ণু কী করছেন? মা কালীর কী খবর? মা দুর্গার সঙ্গে তো খটরমটর লেগেই থাকে। সব কিছুতে কম্পিটিশন, বিশেষ করে শিবঠাকুরকে নিয়ে। ছেলেপুলেদের খবরও আজকাল ফেসবুক থেকে নিতে হয়। কী সব আইফোন, আইপ্যাড, লিংকউইন জুটেছে আজকাল। ফ্যামিলি গ্যাদারিং, ডিনার টেবিলে প্রাণ খুলে গল্প, সবই বন্ধ। আর শিবঠাকুরকেও বলিহারি, সংসারের কোনও খবর কি তিনি রাখেন! ভাগ্যিস মায়ের দশখানা হাত, তাই রক্ষে! না হলে সংসার, ছেলেমেয়েদের সামলে এই বিশ্বজোড়া ভক্তদের বায়নাক্কা সামলানো কি চাট্টিখানি কথা? জগজ্জননী খেতাব নিতে গিয়ে মনে হয়েছিল, ইয়েস, ওয়েল ডিজার্ভড।

লাল রঙের আই-প্যাডটা মা সাইড টেবিল থেকে নিয়ে কোলের উপর রাখলেন। লাল রং মায়ের প্রিয় তাই গত বার পুজোতে অ্যাপলের শোরুম থেকে ভক্তরা কিনে দিয়েছে। মায়ের খুব পছন্দ হয়েছে, একদম কাছছাড়া করেন না। ফেসবুক পেজটা তো খোলাই ছিল। “ওমা! দেখেছ, কতগুলো নেমন্তন্ন এসেছে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া থেকে! ইস, পুজোর আর মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি। গোছগাছ কিছুই হয়নি। ছেলেমেয়েরাই বা কোথায়? যে দিকটা না দেখব সে দিকেই গণ্ডগোল। স্যাটি (সরস্বতী), কার্ট (কার্তিক), তোরা সব কোথায়? লো-কেও (লক্ষ্মী) শ্বশুরবাড়িতে ফোন করতে হবে, আর নেশ (গণেশ) এখন তো ট্র্যাভেল করছে। একটা টেক্সট করে দিই।”

29092014_11_MAA_DURGA

চায়ের কাপ রেখে মা স্যাটির রুমের দিকে গেলেন। মেয়ে আমার বিদ্যেধরী। এত পড়াশোনা করল, এমআইটি থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর উপর পিএইচডি করল, এখন বাড়িতে বসে আছে। বয়স হল পঁয়ত্রিশ, না পেয়েছে একটা চাকরি, না জুটেছে একটা বর। অত বিদ্যে অর্জন করেই বা কী হল? এখন আমাকে দেবতাদের ব্যাঙ্গোক্তি আর কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে। এমআইটি-তে পড়ার সময় কত করে বোঝালাম, ‘দ্যাখ স্যাটি, তোরা আজকালকার মেয়ে, নিজেদের মতো ছেলে খুঁজে নিলে বাবা-মা-দের সুবিধেই হয়।’ তা মেয়ে কিছু দিন চেষ্টা চালিয়েছিল ডেটিং করার। কিন্তু এত বিদ্যেধরী মেয়ে, ছেলেরা সব ভয়েই পালিয়ে যায়। তার পর মেয়ের গোঁ হল তার থেকে তার বরের কোয়ালিফিকেশন বেশি হওয়া চাই। তা তুমি এমআইটি থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর উপর পিএইচডি, তোমার যোগ্য পাত্র পেতে তো নোবেল লরিয়েট খুঁজতে হয়। ইউনিভার্সিটিগুলোও হয়েছে অকাজের। শুধুই বিদ্যে অর্জন করায়। বর আর চাকরি খোঁজার স্কিল যদি ডেভেলপ না করাল, তা হলে আজকালকার সমাজে ছেলেপুলেরা বেঁচে থাকবে কী করে? সব কিছুতেই চারিদিকে এত কম্পিটিশন, ভাবাই যায় না।

ভাবতে ভাবতে সরস্বতীর ঘরের দিকে মা এগিয়ে এলেন। মেয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে সাদা রঙের ম্যাক কম্পিউটারে লিংকউইন প্রোফাইল খুলে বসে আছে। মা উঁকি মেরে দেখলেন আর একটা উইন্ডোতে জুশ্ক বলে একটা ডেটিং সাইটও খোলা। যাক! তা হলে একটু বুদ্ধি খুলেছে। হঠাৎ মাকে দেখে মেয়ে তড়াক করে উঠে বসল, “মম্, দেয়ার ইজ সামথিং কল্ড প্রাইভেসি। দরজায় নক করবে তো ভেতরে আসার আগে। ঠিক আছে, কী হয়েছে বলো?” মা বললেন, “হ্যাঁরে, পুজোর তো মাত্র ক’টা দিন বাকি, গোছগাছ তো করতে হবে! লো, কার্ট, নেশ এদের তো সব একসঙ্গে আসতে হবে। তোর বাবারও কোনও খবর পাই না কিছু দিন। ওঁকে তো ধরেবেঁধে না আনলে স্থান, তিথি সব ভুলে যাবেন। আমি একা কত দিক সামলাই বল তো?” স্যাটি মাকে বললেন, “দ্যাখো মা, আমি তোমাদের সঙ্গে যাচ্ছি, কিন্তু চার দিন পুজোর ওই প্যান্ডেলে বসে থাকতে পারব না। আমি স্ট্যানফোর্ড, বার্কলেতে পোস্টডক-এর চেষ্টা করছি, দু’দিন ওখানে যেতে হবে।” মা মনে মনে ভাবলেন, হায় রে! এত কাণ্ড করে শেষে এই বয়সে পোস্টডক? কতটুকু মাইনে দেবে? ওতে কি সংসার চলে? আর দেবতাকুলে আমার সম্মানটা কি আর থাকবে? মা মুখ ফুটে বললেন, “হ্যাঁরে! বিশ্বকর্মা তো তোর সঙ্গে স্কুলে পড়ত। তার পরে শুনেছিলাম সিলিকন ভ্যালিতে ‘এলন মুশক’-এ অ্যাডভাইসর হয়েছে। তা ওর সঙ্গে কি তোর যোগাযোগ নেই? এক দিন ওর সঙ্গে গিয়ে কফি খেয়ে আয় না!” মায়ের কথার উত্তর না দিয়ে স্যাটি কী একটা বই খুলে বসল। মা দেখলেন, আর বেশি কিছু বলা যাবে না এখন। থাক! যা ইচ্ছে করুক। হাতে এখনও অনেক কাজ বাকি।

সরস্বতীর রুম থেকে বেরিয়ে মা আবার লিভিং রুমে এলেন। দেখি নেশ-কে ফোনে পাওয়া যায় কিনা। “হ্যালো নেশ! মা বলছি। পাঁচ মিনিট কথা বলা যাবে?” গণেশ বলল, ‘মম্! আমি মিটিঙে আছি। তোমাকে রাতে কল করব। ওকে বাই!’ ফোনটা কেটে গেল। মা ভাবলেন, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আজকাল কথা বলাই মুশকিল। এত সাকসেসফুল আর এত ব্যস্ত ওরা। দেখি লো-এর সঙ্গে কথা বলে নিই তত ক্ষণে। লো-এর বেশ ভাল বিয়ে হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে থাকে। জামাই ফেসবুকের সিটিও। ২০১১ সালে ওদের বিয়ের পরই ক্যালিফোর্নিয়ার বাজার ফিরে গিয়েছে। রিসেশনও কেটে গেল, কত নতুন নতুন কোম্পানি তৈরি হল, কত নতুন চাকরির পোস্ট তৈরি হল। ফেসবুকের আইপিও হল, তাই তো এখন লক্ষ্মীর শাশুড়ির বৌমা-অন্ত প্রাণ। প্রায়ই বলেন, বৌমার জন্যই আমার ছেলের এত রমরমা।

লক্ষ্মীই ফোনটা ধরল। ‘‘হ্যাঁ, আমি থাকছি তোমাদের সঙ্গে পুজোতে। গত বার তোমার জামাই পুজো দেখে খুব ইমপ্রেশড। পুজোয় বাঙালিদের এত আলোর রোশনাই, আড়ম্বর, জাঁকজমক, শুধু ওর কলিগরা কেন, যে কেউ দেখেই মুগ্ধ হয়ে যায়। দামি শাড়ি-গয়নায় সাজা মহিলাদের মধ্যে সাজগোজের কম্পিটিশন, বাচ্চাদের হইচই, সিল্কের পাজামা-পাঞ্জাবি পরে বৌদের সঙ্গে নিয়ে ছেলেদের ফটো তোলার হিড়িক, তার পরে সেই ফটো ফেসবুকে আপলোড করে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে সেকেন্ডে সেকেন্ডে চলছে আলোচনা। ফেসবুকের শেয়ারের দাম তো তাতেই চট করে বেড়ে হল আকাশছোঁয়া। এ বারেও তাই হবে আশা করছি। তুমি ভেবো না, আমি ষষ্ঠী থেকেই তোমাদের সঙ্গে থাকছি। স্যাটিকে বলে তোমার জন্য একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে নিও। নাম দিও ‘মা দুর্গা ডট কম’। দেখো প্রচুর লাইক পাবে। আচ্ছা, তুমি ক’টা শাড়ি নিচ্ছ? আমার জন্য চার-পাঁচটা নিয়ে এসো। তা ছাড়া আরও কিছু একস্ট্রা নিও। ঠিক আছে, পরে কথা হবে। এখন আবার একটা মিটিঙে বেরোতে হবে। একটা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন থেকে ইনভাইট করেছে।”
মেয়ের কথা যেন শেষ হয় না। কিছু ক্ষণ পরে মা ফোন রেখে সোফায় চুপ করে বসলেন। কার্ট এখন কোথায় থাকতে পারে? ওর তো ব্যান্ডের গ্রুপের আজ প্র্যাকটিস আছে। বোধহয় ওখানেই গিয়েছে। কিন্তু ছেলের রুমে এসে দেখলেন, কার্ট বাড়িতেই আছে। কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছে। কিছু ক্ষণ আড়ি পাতার পর বুঝলেন, জাস্টিন বিবারের সঙ্গে কী এক মিউজিক ভিডিও নিয়ে কথা চলছে। এই ছেলেকে নিয়ে হয়েছে এক জ্বালা। সারা ক্ষণ আইপড কানে নিয়ে বসে আছে। আর গানের তালে তালে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। তার উপর জুটেছে একদল গার্লফ্রেন্ড। এই তো সে দিন বলল, “মম্, আই নিড এ আই-ফোন, অল মাই ফ্রেন্ডস হ্যাভ ওয়ান।” মা অবাক হয়ে বললেন, ‘আই-ফোন কী কাজে লাগবে? আমরাও তো পুরনো ফোনই ব্যবহার করি।” কার্ট বলল, “ওহ্ মম্! তুমি আর কী বুঝবে? আই-ফোন থাকলে ঠিকানা খুঁজে বের করা, ক্যালেন্ডার মেনটেন করা ইজ সো ইজি হোয়াইল আই অ্যাম অন দ্য রোড। ইউ নো, বাই সিক্সটিন বে এরিয়াস কিডস গেট বিএমডবল্যু কনভার্টেবল ফ্রম দেয়ার পেরেন্টস।”

মা ভাবলেন, আহা রে! বাড়ির ছোট ছেলে। সবার আদরে মানুষ। একটু অবুঝ তো হবেই। কী আর করা! দেখি এ বার পুজোয় ভক্তরা যদি একটা আই-ফোন কিনে দেয় তা হলে আমার ঝামেলা যায় চুকে। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। নিশ্চয়ই বিলাসবাহন ট্র্যাভেল এজেন্ট। ওদের ফোন করার কথা ছিল। ‘হ্যালো, কে মা দুর্গা বলছেন?’ মা একটু ভ্রুকুটি কাটলেন। কত বার ওদের বলেছেন সব সময় এত মা দুর্গা মা দুর্গা করবে না তো! ইট ইজ সো ওল্ড ফ্যাশনড। কল মি ডুগ। ছেলেপিলেরা তো ওদের বন্ধুদের বলতেই পারে না যে দুনিয়াসুদ্ধু সবাই ওদের মা-কে ‘মা’ বলে ডাকে। মা আলতো করে বললেন, “প্লিজ কল মি ডুগ। তা আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাভেলের সব বন্দোবস্ত পাকা তো?” ও দিক থেকে বেশ উদ্বিগ্ন গলা ভেসে এল, “আজ্ঞে সবই ঠিক আছে। আপনাদের টিকিট ভিসা সবই হয়ে গেছে। শুধু একটু অসুবিধে আপনাদের হাউসস্টাফদের নিয়ে। গত বার জানেনই তো, গণেশদা’র স্টাফ মূষিকরঞ্জন মল্লিককে ইউ এস কাস্টমস আটকে দিয়েছিল। বলে কিনা পেস্ট কন্ট্রোল আইনে বাধা আছে। আর এক বার তো আপনার স্টাফ পশুপতি দাসকে ইউ এস ইমিগ্রেশন কোয়ারান্টাইনে পাঠিয়ে দিল এক সপ্তাহ।”

ঠিকই বলছে। সে এক কাণ্ড! ওই এক সপ্তাহ মাকে নিজে চলাফেরা করতে হয়েছে। অবশ্য ভক্তরা একটা টেসলা-র ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। তা বছর বছর তো ইমিগ্রেশনের আইনকানুন কড়া হচ্ছে। গত বছর তো আবার খোবরাগাড়-এর ঘটনায় ইউ এস ইমিগ্রেশন সতর্ক হয়ে গিয়েছে। ডোমেস্টিক হেল্পারদের মিনিমাম ওয়েজ, সুযোগসুবিধে ইত্যাদি পরিষ্কার ভাবে কন্ট্রাক্টে লেখা না থাকলে ওরা তো ভিসাই দিচ্ছে না। আচ্ছা, এখান থেকে স্টাফদের না নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে কি কিছু জোগাড় করা যায় না? আজকাল গুগল কার, না কী সব যেন বেরিয়েছে, ড্রাইভিং শেখার দরকার পড়বে না। দেখি নেশের সঙ্গে কথা বলে। ও ব্যাপারটা বুঝবে ভাল। গণেশের ফোনটা আগেই এল, “মম্! কী বলছিলে বলো? এখন আমার হাতে একটু সময় আছে। রাতে আবার একটা ডিনারে যাওয়ার আছে। স্যুটটা এখনও ডেলিভারি দেয়নি। তার পর দেরি হয়ে গেলে তোমরা ঘুমিয়ে পড়বে, তাই ভাবলাম এখন কথাটা সেরে নিই। টেল মি।”

মা বললেন, “পুজো তো এসে গেল, আর বেশি দিন নেই। তোমাকে তো আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। তা তোমার ট্র্যাভেল প্ল্যান কী করেছ? পুজোর সময় এত মিটিং রেখো না। ভক্তরা ক্ষুণ্ণ হয়।” গণেশ বললে, “মম্! তুমি ব্যাপারটা বোঝো না। ওদের জন্যই তো যাওয়া। আমি আসব বলে সব ইনভেস্টার, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, আর বড় বড় কোম্পানির সিইও-রা এক বছর আগে থেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছে। ওদেরই তো পুজো।” মা মনে মনে ভাবলেন, তা সত্যি। এই সব ইনভেস্টর, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের অ্যাডভাইস দেওয়ার জন্য গণেশ সিলিকন ভ্যালির পালো অল্টোতে একটা অফিস খুলে রেখেছে। গত বারে তো মারিশা মায়ার, সেরগেই ব্রিন, এলেন মুশক-রা সবাই এসেছিল দর্শন করতে। পুজোর প্যান্ডেলে শুধু আরতির সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়টা নেশ অফিসেই কাটাল। বলে কিনা ইমিগ্রেশনও ডিক্লেয়ার করেছে ওর ট্র্যাভেল ফর বিজনেস, নট ফর প্লেজার। মিনিমাম বিজনেস আওয়ার্স ওকে মেনটেন করতে হয়। কী আর করা! শুধু কষ্ট হয় বৌমা সিদ্ধির জন্য। বেচারা সারা ক্ষণ একহাত ঘোমটা টেনে মণ্ডপে বসে থাকল। আহারে! বৌটারও তো সাধ-আহ্লাদ আছে।

কিছু ক্ষণ পরে মা আর এক কাপ চা নিয়ে বসলেন, এ বার ওদের বাবার খবর নিতে হবে। এই মানুষটা থুড়ি দেবতাকে নিয়ে হয়েছে এক জ্বালা। কখন যে কোথায় থাকেন, কী যে করেন, তার কোনও ঠিক নেই। সারা ক্ষণ নন্দী-ভৃঙ্গীর সঙ্গে শ্মশানে শ্মশানে ঘুরে বেড়ান। ছেলেমেয়েরা পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। ২০০৮-এ চাকরি থেকে লে অফ হওয়ার পর যেন আরও বেড়েছে। বাড়িতেই থাকেন না। মাঝে মাঝে মায়ের খেদ হয়, বাবা গিরিরাজ কত এনআরআই পাত্র এনেছিল। মা তখন সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ওদের কারও সঙ্গে বিয়ে হলে মা এত দিন ইউ এস সিটিজেন হয়ে সিলিকন ভ্যালিতেই বাস করতেন। কী আর করা যাবে! যার যা কপাল। তা শিবঠাকুর মানুষটা মন্দ নন। কিন্তু ওই আর কী! সংসারে কোনও দিন মন নেই। সবই মাকে সামলাতে হয়। তখনই মায়ের একটু ক্ষোভ হয়। সে বারে তো পুজোয় বে এরিয়ায় গিয়ে কী কাণ্ড! পুজোর ভিড়ভাড়ে অতিষ্ট হয়ে প্যান্ডেল থেকে বেরিয়ে একদঙ্গল হোমলেসের দলে মিশে, ওই আজকাল কী সব বেরিয়েছে না গাঁজার মতো, তাতে বেশ কয়েকটা টান দিয়েছেন। তার পর আর কী! প্যান্ডেলের রাস্তা ভুলে গিয়েছেন। পরের দিন ওঁকে আর পাওয়া যায় না। কী কাণ্ড! পুলিশে খবর দিতে হল। গুগল ম্যাপে দেখে সব ক’টা হাইওয়ে ক্রসিংয়ে ভক্তরা দৌড়ে বেড়াল, শেষে দেখা গেল কোন এক ক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, ধূলিধূসরিত অঙ্গ, চক্ষু রক্তবর্ণ। ভক্তরা পুজোয় একটা আই-প্যাড দিয়েছিল, সেটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে, আই-প্যাডে লেখা ‘জাস্ট হাংরি’। লজ্জায় একদম মাথা কাটা গেল!

মৌসুমী মানি বিশ্বাস
সান ফ্রান্সিসকো, আমেরিকা

Leave a Reply


*